‘প্রেমকাহন’ নিষিদ্ধের চিঠিতে যা বলেছে সেন্সর বোর্ড

‘প্রেমকাহন’ নিষিদ্ধের চিঠিতে যা বলেছে সেন্সর বোর্ড

‘প্রেমকাহন’ নিষিদ্ধের চিঠিতে যা বলেছে সেন্সর বোর্ড

গত ২৭ অক্টোবর সেন্সর বোর্ড তরুণ নির্মাতা রুবেল আনুশের প্রথম ছবি ‘প্রেমকাহন’ দেখে। এরপর তারা ২ নভেম্বর ছবিটি জনসাধারণের মধ্যে প্রদর্শন উপযোগী নয় বলে প্রযোজককে চিঠি দেয়। সে চিঠিটিতে তারা পাঁচটি কারণ দেখায় ছবিটিকে সেন্সর না দেওয়া এবং প্রদর্শন নিষিদ্ধ করার কারণ হিসেবে।
সেন্সর বোর্ডের সচিব মো: মমিনুল হক স্বাক্ষরিত চিঠির শুরুতেই বলা হয়, ‘প্রেমকাহন’ ছবিটি গত ১০ অক্টোবর সেন্সরের জন্য আবেদন করে। এরপর বোর্ড সদস্যরা ২৭ অক্টোবর ছবিটি দেখার পর সর্বসম্মতিতে নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেন। এ সিদ্ধান্তের পিছনের কারণ হিসেবে তারা কিছু মত দেন। সেগুলো হচ্ছে:
১/ চলচ্চিত্রটির কাহিনি অসংলগ্ন ও অশ্লীল

২/ চলচ্চিত্রটিতে যুব-কিশোরদের অনৈতিক কাজে উদ্ভুদ্ধ করা এবং অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ও সংলাপ রয়েছে

৩/ মানুষের যৌন জীবনকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে

৪/ সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রতি বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে

৫/ চলচ্চিত্রটি প্রদর্শিত হলে সামাজিক শৃঙ্খলা, মূল্যবোধের অবক্ষয় ও সংহতি বিনষ্ট হওয়াসহ জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে।
চিঠিতে বলা হয়, এসকল মতের ভিত্তিতে এবং ‘দ্য সেন্সরশীপ অব ফিল্মস অ্যাক্ট, ১৯৬৩ (২০০৬ সংশোধনী)’ এবং ‘দ্য বাংলাদেশ সেন্সরশীল অব ফিল্মস রুলস, ১৯৭৭’-এর বিধি ১৩ এর অধীনে প্রণীত তথ্য মন্ত্রণালয়ের এসআরও নং-৪৭৮-এল/৮৫, তারিখ: ১৬ নভেম্বর, ১৯৮৫ এর আই (এফ) (জে), তিন, চার(বি) (এক) দফায় বর্ণিত উপাদান ‘প্রেম কাহন’ এ বিদ্যমান থাকায় ছবিটি ‘জনসাধারণের মধ্যে প্রদর্শন উপযোগী নয়’ বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও বলা হয়, একই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ‘দ্য বাংলাদেশ সেন্সরশিপ অব ফিল্মস রুলস, ১৯৭৭’ এর বিধি ১৬(৫) অনুযায়ী ‘প্রেমকাহন’-এর সেন্সর আবেদনপত্র অগ্রাহ্য করা হয়েছে।

বোর্ড জানায়, ‘দ্য সেন্সরশীপ অব ফিল্মস অ্যাক্ট, ১৯৬৩ (২০০৬ সংশোধনী) এর ৪বি(১) ধারা অনুযায়ী প্রযোজক চাইলে চিঠি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন।

এদিকে ছবিটির পরিচালক রুবেল আনুশ সারাবাংলাকে জানিয়েছেন, তিনি আপিল করবেন না। এমনকি রিভাইর্সড ভার্সনও জমা দিয়ে সেন্সর চাইবেন না। যেহেতু হলে মুক্তি দেওয়ার উপায় থাকলো না, তাই ছবিটি বিকল্প প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করবেন।

‘প্রেমকাহন’-এর শুটিং শুরু হয় ২০১৪ সালের আগস্টে ‘নিষিদ্ধ প্রেমের গল্প নামে’। ছবিটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন সিমলা, শিমুল খান, রুমাই নোভিয়া, মামুন, আবুল হায়াত, পুলক, বাপ্পী, লাবণী, সাদিয়া, আলিফ, মুসা, টুটুল চৌধুরী, আফরিন প্রমুখ।
ছবিটি প্রযোজনা করেছে আনুশ ফিল্মস। সহ-প্রযোজক রেড পিকচার্স।

 

 

Author: admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *